Friday, September 16, 2016

বিদেহি প্রেমিকা- দ্বিতীয় পর্ব

             বিদেহি প্রেমিকা
      #Pradip Kumar Biswas
    দ্বিতীয় পর্ব   # ভুতের গল্প  #Bengali ghost story
প্রথম পর্ব লিঙ্ক http://pradipstories.blogspot.in/2016/09/blog-post_21.html

রান্নাঘরের কাছে ছোট ভাঁড়ার ঘরেই অনিলের একক শয্যা।আমরা এতে সানন্দে রাজি হয়েছে ওর অনিয়মিত আসা যাওয়া আর ওর বাহন ট্রান্সরিসিভারের নৈশ রাদেভুর কথোপকথনের আশঙ্কায়
গভীর রাত অবধি  ও ফেরে নি দেখে সবাই একটু উদ্বেগে ছিলাম । কোথাও কোনও থিয়েটারের মহলাতে আটকে আছে হয় তো ।
পরের দিন আমাদের ট্রেনিং ছিল জি এস আই চৌরঙ্গী হেড অফিসের রিমোট সেন্সিং ল্যাবে অনিলের সাথে ওখানেই দেখা হল ।
স্বভাবসিদ্ধ অসাধারন নিপুণতায় ও ক্ষিপ্রতায়  ও ওর অংশের কাজটা  তাড়াতাড়ি  শেষ করে ট্রেনিং ইন চার্জের কাছে ছুটি নিয়ে ল্যাব থেকে বেরিয়ে যাবার সময় বলে গেল “সন্ধ্যের সময় দেখা হবে তোদের সাথে” ।
ল্যাবের কাজটা বেশ শক্ত ছিল এখনকার সময়ের মত তখন  কম্পিউটার সাপোর্ট এত গভীরে ছিল না টোপোগ্রাফি বোঝবার কাজটা নিজের হাতে অঙ্ক কষে গ্রাফ প্লট করবার প্রোগ্রামিং তৈরি করে তাতে অঙ্কমানগুলো প্রবেশ করিয়ে তবে কাজ শেষ হত
শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে দিনের শেষে আমরা ফিরছি ভাড়া-বাড়িতে । সকলেই গজরাচ্ছি যে সারাদিনের  এই হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর  যে একটু স্নান করে শরীর মন ঠাণ্ডা করে  নেব সবাই, তার উপায় নেই। 
আমরা পৌঁছালেই ভ্যাম্পটা জলের ধারা সরু করে দেবেকিছু বলতে গেলে সে আরো শয়তানি করে মাঝ রাতে বিদ্যুতের কানেকশন কেটে দেবে।
মোড়ের মাথাতেই  আমাদের ভাড়া-বাড়ি । দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বাড়ির সামনে একটা বেশ বড় জটলা
বৃদ্ধ জয়হরির কিছু হল কি?মাঝে মাঝে শর্ট সার্কিটের দরুন সেই লেবু লঙ্কা মাড়িয়ে ফেলার ঘটনার দিন  দিন থেকে একতলায় কলিং বেল থেকে থেকে  নিজে নিজেই বেজে ওঠে।  সেইটা থেকে ললিতা ভ্যাম্পের কিছু হল না তো?
বাড়ির সামনে আসতেই  দোতলায় যাবার জন্য সিঁড়ির প্যাসেজে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন সামান্য সরে গেল ।  সেই পথে যাবার জন্য একতলার সদর দরজার সামনে এসে যা দেখলাম  তাতে গা সিউরে উঠলো ।
মস্ত বড় টাটকা সবুজ মানকচু পাতার ঠিক মাখখানে একটা বীভৎস আকৃতির বিরাট নরমুণ্ডের কঙ্কাল । তার মাথায় একটা ছোট প্রদীপ জ্বলছে ।
নরমুণ্ডের ঠিক তলাতে আড়াআড়ি করে অর্থাৎ ইংরেজি “X” অক্ষরের মতো করে,   দুটো লম্বা হাড় রাখা আছে তার তলায় রয়েছে দুটি থ্যাঁতলানো  টাটকা  লেবু ।
নরমুণ্ডে, হাড়গুলোতে এবং সবুজ মানকচু পাতার জায়গায় জায়গায়   টাটকা রক্তের ছোপ দেখা যাচ্ছে পাতার চার প্রান্তে দগদগে লাল রঙের তেলে সবুজ রঙের সলতে দেওয়া প্রদীপ জ্বলছে ।
জনতার গুজগুজ ফিসফাসে শোনা গেল বাড়ির পেছন দিকের বাগানে লেবুগাছ তলাতেও নাকি অবিকল এই রকম একটি ভয়ঙ্কর-দর্শন কঙ্কাল করোটি   সমেত মানকচু পাতা রাখা আছে ।
জনতার নিজেদের আলাপ আলোচনায় জানলাম বিশাল মানকচু পাতাতে নর-করোটি, “x” এর মত করে রাখা  লম্বা হাড় এবং আরও সব জিনিষ যা দেওয়া আছে এই পুরো সেটটির নাম “আস্থানা”। খুব বড় ওস্তাদ গুনিন ছাড়া এই রকম  আস্থানা কেউ করতে পারেন না।
আরো শুনতে পেলাম যে  যার বাড়িতে এই আস্থানা পাতা হয় সেখানে বিপজ্জনক অশরীরীরা এসে বাস করে এবং বাড়ির মালিকদের অতি শীঘ্র কোনও বড় বিপদ হবেই এবং তা আটকানো খুব কঠিন এইটা অনেকে বিশ্বাস করেন বা জানেন । 
জয়হরি ভালোমানুষ প্রবীণ লোক তাঁকে মাঝে মাঝে ঘরের ভেতর বাইরে করতে দেখা গেল কিন্তু ললিতা ভ্যাম্প বাড়ির ভেতর থেকে  একটানা  কেঁদে চলেছেন আর বলছে “ কে আমাদের এই সর্বনাশ করল? আমরা তো কারো কোনও ক্ষতি করি নি”।
শেষ কথাটায় আমার নিজেদের মধ্যে চাওয়া-চাওয়ি করতে করতে সকলেই বোধহয় মনে মনে বলতে থাকলাম “কর নি আবার? এক মাস ধরে রোজ মর্জি মাফিক জল আর লাইট কেটে দিয়ে আমাদের জিনা হারাম করে দিয়েছ”।
পাড়া পড়শি সবাই এসেছে কিন্তু কঙ্কাল-করোটির আস্থানা ডিঙ্গিয়ে যাবার হিম্মত কারো হয় নি ।
একটা সমবেত গুঞ্জন শুনে সেদিকে চোখ রাখতেই দেখি লাল পুরোহিত আসছে ।এখানের লোকে তাঁকে সেই নামেই ডাকে।  
মোড়ের মাথায় অশ্বত্থ গাছতলার কালীমন্দিরে একজন লাল কাপড় পড়া পুরোহিত বসে থাকে।কারণ-বারির প্রসাদের কল্যাণে তার চোখ-জোড়া ও সব সময় লাল হয়ে থাকে ।   পাড়ার লোকজন  কয়েক জন সেই লাল পুরোহিত কে  নিয়ে আসছে ধরে ধরে অনেকটা জোর করেই

বিদেহি প্রেমিকা-প্রথম পর্ব

                              বিদেহি প্রেমিকা 

#Pradip Kumar Biswas
    প্রথম পর্ব   # ভুতের গল্প  #Bengali ghost story
পুরো ঘটনার একটা বড় অংশ এবং সুত্রপাত যার মস্তিস্কের ধুসর কোষগুলির পরিশ্রমের ফল তার আসল নাম  এখানে দেওয়া যাবে না।  মিডিয়ার বদান্যতায় অনেকেই তাকে জানেন  সে এখন একজন ভুবন বিখ্যাত মহাকাশ-ভূতত্ত্ববিদ তাই তার নাম দিলাম অনিল।
বিস্ময়কর বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি অনিলের নিজের পাঠ্য বিষয় ছাড়া গান, অভিনয় এবং ইলেকট্রনিক্সও  অসাধারন দখল ছিল
হাতের তেলোর সাইজের ট্রান্স-রিসিভার বানিয়েছিল ও যা একই সাথে ট্রান্সমিটার এবং রিসিভারের কাজ করত ।
কিছুমাস পর ওর আশপাশের রুম  থেকে খবর আসতে লাগলো প্রায়ই গভীর রাতে ও ওর ট্রান্সরিসিভারে কোনও মেয়ের সাথে কথা বলে ।
সেটা মোবাইলের যুগ নয় ।একটু দূরে  ফোনে কথা বলতে গেলেও ট্রাঙ্ককল বুক করতে হত । এও গুজব রটে গেল যে ও নাকি এই সেট দিয়ে ভুত প্রেত বা অশরীরীদের সাথে  বার্তালাপ করে । কেউ কেউ নাকি  বিচিত্র সুরে অদ্ভুত সব কথোপকথন শুনেছে আশ–পাশের রুম থেকে । 
খড়গপুরে আমাদের এই ভুবন বিখ্যাত কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে রকমারি প্রতিভার ছড়াছড়ি । ডাইনিং হলে স্পেশাল-ডে তে কারো ছেড়ে দেওয়া  ড্রোণ, প্লেট থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে যেত আস্ত মুরগির রোস্টএমনি নানারকম সব ব্যাপারে আমরা সাধারন মাপের ছাত্ররা হতবাক হয়ে থাকতাম ।
অনিল নিজে যখন ওর নামে এই রটনাটার সায় বা প্রতিবাদ কোনোটাই না করে সুচতুর ভাবে জবাব এড়িয়ে গেল তখন আমাদের বিশ্বাস আর অবিশ্বাস দুইই হল ।
থার্ড ইয়ারের শেষে খনিজ অনুসন্ধানে উপগ্রহ চিত্রের বিশ্লেষণের হাতে কলমে কাজ শিখতে কলকাতায় গিয়ে থাকতে হল গোটা গরমের ছুটিটাই।        
ওখানে থাকা খাওয়ার সুবিধের জন্য আমাদের এই সহপাঠী অনিলের উদ্যোগে আর তার হবু ডাক্তার দিদির সুপারিশে আমরা একটা বাড়ির তিন-তিনটে রুম, কিচেন আর ছোট স্টোর রুমসহ পুরো দোতলাটা ভাড়া পেয়ে যাই
নিঃসন্তান বাড়ির মালিক-দম্পতি জয়হরি আর ললিতা দাস  এক তলায় আর আমরা পুরো দোতলাটা।
কিছু দিন যাবার পর বুঝলাম এরা নামেই বৈষ্ণব কিন্তু ললিতা দাস আসলে হিন্দি সিনেমার খলনায়িকা ললিতা পাওয়ারকে অনেক পেছনে ফেলতে পারেন  
ললিতার  অত্যাচার লীলা সুরু হয়ে গেল দু’মাস অগ্রিম ভাড়ার কড়কড়ে নোট গুনে নেবার পরের দিন থেকে আমরা ওনার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নাম দিয়েছিলাম  ললিতা ভ্যাম্প
প্রায়ই সকাল-সন্ধের দিকে জল থাকতো  না। একটু রাত হলেই নিচ থেকে ভ্যাম্প ম্যাড্যাম কোনও কারসাজি করে পুরো দোতলার বিদ্যুৎ কেটে দিত
নির্বিকার  বাড়ীওয়ালা জয়হরি বাবুর  কাছে এ ব্যাপারে বলাবলি করেও লাভ কিছু হল না ।
আমাদের কষ্ট দেখে জয়হরি-ললিতা   সমবেত অষ্টপ্রহর কেত্তনের সুরে একটু  হা হুতাশ ছাড়া আর কিছুই করেন না।
আমরা যদি অতিষ্ঠ হয়ে ছেড়ে পালাই তবে লাভ তো ওনাদেরই আর সেই মতলবেই ললিতা ভ্যাম্প রোজ এই অত্যাচার-লীলা চালিয়ে যাচ্ছেন।  এই সময় এক দিন হঠাৎ একটা ব্যাপার ঘটলো।   
ছুটির দিন, সকালবেলাতেই নিচ থেকে শোনা গেল খলনায়িকা ললিতার  হাউ-মাউ করে  কান্নাআমাদের সকলের কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে গেল ।
রাত্রে তাহলে চোর এসেছিল নাকি?  নিজেদের জিনিসপত্রের দিকে জলদি একবার চোখ বুলিয়ে  নিচে গিয়ে দেখি ওনার দরজার কাছে প্রচুর কাঁচা লঙ্কা আর কিছু পাতিলেবু থেতলে পড়ে আছে।
সকাল বেলাতেই  বেশ কয়েকবার ডোর বেল বাজার পর বিরক্ত হয়ে  দরজা খুলে কাউকে দেখতে পান নি ললিতা  আশেপাশে কেউ লুকিয়ে থেকে বার বার বিরক্ত করার জন্য এই কাজ করছে হয়তো। এই ভেবে দরজা থেকে বেরিয়ে  উনি দরজার কাছে পড়ে থাকা লেবু আর লঙ্কা না দেখে পা দিয়ে থেতলে ফেলেন ।
লেবু- লঙ্কা  যদি কেউ পা দিয়ে থেতলেই ফেলে তাতে ভয়ের কি আছে এটা আমাদের মাথায় ঢুকলই না।   
পুরো ব্যাপারটা খোলসা হল ওপরে এসে । দেখি আমাদের রাঁধুনি গোবিন্দ মাথা নিচু করে অপরাধির মত দাঁড়িয়ে আছে।
ওকে প্রশ্ন করতেই জানা গেল কাল সন্ধ্যের সময় বাজার করে ফেরার পথে সবার শেষে নেওয়া লেবু আর লঙ্কার প্যাকেট ওর ব্যাগে ছিল সবার ওপরে
সিঁড়ির কাছে  অন্ধকার থাকায় ও হোঁচট খেয়ে নিজেকে সামলে নেয় কিন্তু সেই সময় যে ব্যাগ থেকে লেবু লঙ্কার প্যাকেটটা পড়ে যাবে  তাও আবার বাড়িওয়ালাদের দরজার কাছে সেটা ও দেখতে পায় নি।  
ওর থেকেই আমরা শুনলাম যে অনেক সময় তুক-তাক করবার জন্য দরজা-গোড়াতে এই রকম ভাবে মন্ত্রপুত লঙ্কা আর লেবু শেষরাত্রে ফেলে রাখা হয়।
সকালে বাড়ির লোক  দরজা খুলে যদি তা পা দিয়ে  মাড়িয়ে ফেলে আর তার সাথে  লেবু যদি পিষে ফেলা হয়  তাহলে তো অপদেবতার ক্রোধের আর সীমা পরিসীমা থাকে না।
ছুটির দিন আমরা যে জমিয়ে স্নান করবো বা এক দুটো জামা কাপড় কেচে নেব তার উপায় নেই। ইঁদুরের মুত্রধারার সাথে পাল্লা দিয়ে কলের ঘরে জল আসছে।
সকালের ঘটনাটা খলনায়িকা ললিতাকে তখনকার মত হতভম্ব করে দিলেও মানুষকে কষ্ট দেবার ভ্যাম্পের বুদ্ধি সমানে কাজ করে যাচ্ছে।
অনিল নিজেও এই ব্যাপারটা দেখে রাগে দুঃখে ফেটে পড়ল। ওর উদ্যোগেই আমরা এই বাড়িতে আরামে থাকব বলে এক সাথে দু’মাসের অগ্রিম ভাড়া চুকিয়ে এখানে  এসে ফেঁসে গেছি এই কথা বার বার বলতে থাকল । আমরা  ওকে চুপ করালাম।
তবে একটু পরেই দেখি ও ইউরেকা ইউরেকা বলে লাফিয়ে উঠছে ।আমরা কাছে যেতেই দেখি ও সেই ভর-দুপুরেই কোথাও বেরোচ্ছে । আমাদের দিকে তাকিয়ে বলে -সমস্যার কিছু একটা সমাধান হচ্ছেই
 আমি বলি – কিভাবে?
০ ক্রমশ প্রকাশ্য বন্ধু । তবে এটুকু জেনে রাখ শয়তান তার বধের অস্ত্র আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে। আর এই  শয়তানে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে
এক বন্ধু  উদ্বেগের সাথে বলে – তুমি এই দুপুর রোদ মাথায় করে চললে কোথা
ও বলে – গোকুলে একটা মানুষের বদমায়েশি স্বভাবের বধের জোগাড় করতে ।
ও যার কথা বলছে সে যে  কে তা আমাদের বুঝতে বাকি নেই
              সবিনয় নিবেদন
            #প্রদীপ কুমার বিশ্বাস
      # ভুতের গল্প # Bengali ghost story
অশরীরীদের  নিয়ে কাহিনী লেখবার আগে মাননীয়/ মাননীয়া পাঠক/ পাঠিকাদের  উদ্দেশ্যে এই অতি ক্ষুদ্র লেখকের কিছু  বিনীত নিবেদন আছে।
১।আমার গল্পগুলি অশরীরীদের অনুভব করবার প্রয়াসের  ভিত্তিতে সামান্য কল্পনা  মিশিয়ে লেখা যাতে কোনও রকম মিথ্যে ভয়ের কাহিনী নেই
২। উত্তর এবং উত্তর পূর্ব হিমালয়ে জল-বিদ্যুৎসম্ভাবনা এবং ভুস্খলনের(landslide) কারন অনুসন্ধানে দীর্ঘসময় থাকবার কালে একাধিক সাধক মহাত্মার সঙ্গ লাভ করেছি। তাঁদের কাছে জেনেছি
ক) সবচেয়ে বড় অশরীরী হলেন ঈশ্বর। তাঁকে  দেখা যায় না তবে বিশেষ ধরনের মানসিক ব্যায়াম নিত্য নিখুঁত ভাবে করতে করতে তাঁর একটু সামান্য অংশকে অনুভব করতে পারবার সম্ভাবনা আছে ।
খ)ঠিক এই ভাবে ভুত বা অশরীরী কে দেখা যেতে পারে না তবে অনুভব করা যেতে পারে।যারা দেখেছেন বলেন তারা আসলে অলীকছায়া  দর্শন করেন  বা hallucination দেখেন বা কাল্পনিক ত্রিমাত্রিক অসদবিম্ব দেখেন।
যারা অশরীরীদের  অস্বীকার করেন তাঁরা বোধ হয় সব চাইতে বড় অশরীরী ঈশ্বরকেও অস্বীকার করেন।
গ)ছোটো মাপের হঠযোগী এবং সাধনা পথ থেকে বিচ্যুত এই রকম কেউ কেউ লোকালয়ে, শ্মশান, পোড়ো বাড়ি ইত্যাদি জায়গায় এসে সময়, পরিবেশ, মানসিক অবস্থা ইত্যদির সুযোগ নিয়ে সম্মোহনের দ্বারা এই hallucination দেখাতে পারে।
আমরা অনেকেই ভূত দেখার যে গল্প শুনি অমাবস্যার নিশুতি নিশিতে  অনেক শ্মশানে, পোড়ো বাড়িতে  তা এই কারনে হতে পারে।এই সব ক্ষেত্রে আমরা নিজেরা নিজেদের মনকে আগে থেকেই প্রভাবিত করে নি। লক্ষ্য করা যেতে পারে কেউ দিনের বেলা ওই সব জায়গাতে ভুত দেখতে পাই না কেন না মনকে তখন প্রভাবিত করতে পারি না।  
এই কাজ অশরীরী খুব কম ক্ষেত্রে নিজে করে কেননা এটা করার পর তাকে অনেক মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে তীব্র যাতনার সামনে পড়তে হয়।
কিন্তু দুটো ক্ষেত্রেই যা দেখি তা ত্রিমাত্রিক অসদবিম্ব মাত্রএটা সত্যি সত্যি ভেবে ভয় পেয়ে গিয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করি ।    
ঘ) পূজা অনুষ্ঠান ইত্যাদি এক ধরনের প্ল্যানচেটের মত । ঠিক ভাবে করলে এর দ্বারা ঈশ্বরকে আবাহন করা যেতে পারে।
ঙ)দেহ হল ঘড়ির কেসিং এর মত আর আত্মা হল ঘড়ির মেসিনটা। শরীরটা অকেজো হলেই আত্মা শরীরকে ত্যাগ করে টুকরো টুকরো হয়ে ফিরে যায় পরমাত্মার কাছে
চ)কারো ক্ষেত্রে এই আত্মা অবিকৃত হয়ে শরীরী দুনিয়াতে থেকে যায় । তাকেই আমরা ভুত বা অশরীরী বলি । মৃত্যুর পর তার পুরো শরীর ধবংস হয়ে যায় । যার হাত পা দাঁত কিছু নেই সে কারো গলাটা টিপবে বা ঘাড় মটকাবে কি করে?
ছ)সত্ত্বা তিন স্তরের  সাত্ত্বিক, রাজসিক আর তামসিক । মৃত্যুর পর অশরীরী সত্ত্বার একমাত্র লক্ষ্য ঐশ্বরিক জগতে প্রবেশ যা সাত্ত্বিকের পক্ষে সহজ সাধ্য কিন্তু ক্রমান্বয়ে কঠিন রাজসিক এবং তামসিক সত্ত্বার ক্ষেত্রে । কিন্তু এরা অশরীরী হয়েই সাধনায় মগ্ন থাকেন আত্ম- উন্নয়নের জন্য।
জ) হিংস্র চরিত্রের লোক যদি অশরীরী হয় তবে সে তার নিজের তামসিক সত্তার উন্নয়ন করে সাত্ত্বিক অবস্থায় উন্নীত হতে চায় । প্রতিশোধ, খুন-খারাবি, নীচতা এই সবের মধ্যে আর থাকে না। অনেকটা এই কারনেই মৃত্যুর আগে অনেক তামসিক সত্তা নিজের খারাপ কাজগুলি ছেড়ে দেয় । কাজেই বদ লোকেরা যদি অশরীরী হয় তবে তাদের যে ভয়ঙ্কর রুপ গল্পে দেখান হয় তা ঠিক নয় ।
ঝ)অশরীরী হয়ে শরীরী জগতে থাকাটা অনেকটা ডায়াবেটিস রোগীকে মিষ্টির দোকানে বসিয়ে রাখার মতো অসহায় অশরীরীরা এই নিদারুন কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চায়কারো ক্ষতি করে বা সম্মোহিত করে কোনও শরীরী আকারে  হ্যালুসিনেসন দেখিয়ে  অনর্থক নিজের শক্তি ক্ষয় করে না।
ঞ)অশরীরীদের নিয়ে বেশির ভাগ গল্পে তাঁদের দুঃখ,বেদনা বা জ্বালাযন্ত্রণার কাহিনী কমই থাকে বেশিটাই তাঁদের নিয়ে লেখা অলীক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যে ভয়ের কাহিনী যা শুনে পাঠক-পাঠিকা ভয়ে কাঁপতে থাকে
ট)তবে এটাও সত্যি যে ভয় পেতে আমরা সকলেই ভালবাসি, ভয়ের শিহরনে মানসিক আনন্দ এবং উত্তেজনা পাই ।ভুতের অলীক গল্প এই কারনে এত জনপ্রিয়।
উপরোক্ত কথাগুলি, হিমালয়ে ভূতাত্বিক সমীক্ষার কাজ করবার সময়, একটু একটু করে আমি জেনেছি  যোগী মহারাজদের সংস্পর্শে এসে যা আমি সুধী পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে ভাগ বা সহ-বণ্টন(share) করলাম     
আমি আবার বলি অশরীরীদের আমার লেখা কোনও গল্পে ভয় দেখানো নেই কেননা  অনুভব করতে জানলে বোঝা যায় যে অশরীরীরা তাঁদের নিদারুন দুঃখ, বেদনা আর যন্ত্রণা নিয়ে আছেন আমাদের অলক্ষ্যে।
আমরা যদি সেই সব অনুভব না করতে চাই, নিজেদের মধ্যে ভাগ বা সহ বণ্টন  না করি তবে তা চিরকাল আমাদের অলক্ষ্যেই থেকে যাবেরয়ে যাবে তাঁদের নামে রক্ত শুষে নেবার বা ঘাড় মটকে খাবার বা কাঁচা মাছ খেয়ে নেবার মিথ্যে অপবাদ।
মিথ্যে এই জন্য  কেন না মৃত্যুর পর পুরো দেহ ধবংস হয়ে গেছে। হাত, পা, দাঁত, গলা, পাকস্থলি কোনও দেহ-যন্ত্র যেমন নেই তেমনি রক্ত শুষে নেবার, মাছ খেয়ে নেবার, বা ঘাড় মটকাবার কোনও উপায় তাঁদের আর নেই।সেই জন্য তাঁদের নিয়ে ভয় পাবার কোনও কারণ নেই যা আমরা নিজেরাই তৈরি করি
তিনটি কাহিনী আপনাদের শোনাবার ইচ্ছে আছে। প্রথম কাহিনীটি ছাত্রবয়েসের, যখন অশরীরীদের নিয়ে কিছু জানতাম না। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গুলি আরও পরের দিকের যখন অশরীরীদের সম্পর্কে যোগী মহারাজদের সংস্পর্শে এসে অতি সামান্য কিছু জেনেছি।
পড়ার সুবিধের জন্য প্রতিটি গল্প লিঙ্ক দেওয়া পর্বে পর্বে ভাগ করে সব পর্ব গুলি এক সাথে দিয়েছি। এই সব গল্প গুলি আমার ব্লগে আছে । সেখানেও পর্বে-পর্বে ভাগ করে দিয়েছি তবে চাইলে পর পর একসাথে পড়তে পারবেন সেখানে। প্রিন্টটা ও ভালো, হয়তো পড়তে খারাপ লাগবে না । 
এই পোস্টিং এর পরেই দিলাম প্রথম গল্পটি  নয়টি পর্বে ভাগ করে কিন্তু একসাথে এক দিনে  সামান্য সময়ের হেরফের হয়ে একের পর একআপনারা সাথে থাকুন, পড়ুন, মন্তব্য করুন, তিরস্কার করুন, সব মাথা পেতে নেব